প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নবম জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কৃষি, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, এই কমিশনের লক্ষ্য শুধু দুটি দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ সভা কেবল দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন নয়—এটি জনগণের কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, ট্রেড, কমার্স, আইটি, এগ্রিকালচার ও ফুড প্রতিটি খাতেই এমন কিছু আলোচনা হয়েছে, যা সরাসরি দুই দেশের মানুষের উপকারে আসবে। আমরা কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকেও যেতে চাই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি পারস্পরিকভাবে সহযোগিতা করতে পারে, তাহলে পুরো অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
বৈঠকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে পারস্পরিক গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিমান ও সমুদ্র যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সংযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি পেট্রোলিয়াম মিনিস্টার আলী পারভেজ মালিক বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার তুলনায় খুবই সামান্য। বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পপণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আমরা কৃষি ও জ্বালানি খাতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করব।’
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা আশাবাদী, এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এ ইতিবাচক ধারা ধরে রেখে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা।’